ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ‘দগমোশ’ নামে একটি নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছে, যা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজা সিটিতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে দগমোশ গোষ্ঠীর সদস্যই ৩২ জন। খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা রাস্তায় সাতজনকে গুলি করে হত্যা করছে। স্থানীয় কিছু বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহতদের ইসরায়েলি বাহিনীর সহযোগী বলে দাবি করে হামাসকে সমর্থন জানায়। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা দগমোশ গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
আরও
যুদ্ধবিরতির পর হামাসের সামরিক শাখা ‘আল কাসাম ব্রিগেড’ অস্থায়ী পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমিত সময়ের জন্য হামাসকে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ফাতাহ ও প্যালেস্টাইন অথরিটিকে বিতাড়িত করার পর থেকেই হামাস গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়, এবং এরপর থেকে সেখানে আর কোনো নির্বাচন হয়নি।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলি সেনাদের পাশাপাশি হামাসবিরোধী কিছু গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। যদিও তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি দগমোশ গোষ্ঠীকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই গোষ্ঠী ইসরায়েলের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
দগমোশ গোষ্ঠীর এক শীর্ষ সংগঠক হুসাম আল-আস্তাল এক ভিডিওবার্তায় ঘোষণা দেন, “হামাসের শাসন গাজায় শেষ হয়ে গেছে, তারা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।” এদিকে ইসরায়েলও রাফা সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে গোষ্ঠীটির নেতা ইয়াসের আবু শাবাবকে নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে।













