লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কারণে গোষ্ঠীটি লেবাননেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে, যা ইরানের পরামর্শে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহ এই কৌশলের মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। লেবাননিরা গোষ্ঠীটির প্রতি আগের মতো সমর্থন দেখাচ্ছেন না এবং তারা ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধও করতে পারছে না। এই কারণে হিজবুল্লাহকে তাদের অবস্থান নমনীয় করতে হচ্ছে।
গত মাসের শেষ দিকে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম টেলিভিশনে ভাষণে বলেছেন, গোষ্ঠীর অস্ত্র কেবল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে এবং লেবানন বা অন্য কোনো রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। তিনি সৌদি আরবকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলছেন, এটি বিরোধ নিষ্পত্তি, উদ্বেগ মোকাবিলা ও ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্ভব।
আরও
হিজবুল্লাহ ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। ২০১৬ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জিসিসি গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে ২০২৪ সালের জুনে আরব লিগ হিজবুল্লাহকে তাদের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের পরামর্শে হিজবুল্লাহ এখন প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে ইসরায়েল-মার্কিন হামলার পর।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ অস্তিত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে। নাইম কাসেমের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গঠন করে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যাতে অন্যান্য রাষ্ট্রের ওপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।




![]oiug](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/oiug.webp)






