ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর)। দীর্ঘ এই সময়ে অবরুদ্ধ গাজায় দখলদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, অচিরেই গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে মিশরের শার্ম আল-শেইখে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে আগ্রাসনের হুমকি দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, বন্দিদের মুক্তি, হামাসের শাসনের অবসান এবং গাজাকে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে দাঁড়াতে না দেওয়া— এ তিনটি লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গাজা ইস্যুতে একটি “বাস্তব চুক্তির সম্ভাবনা” তৈরি হয়েছে। আলোচনার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে জানা যায়, বুধবারও এ আলোচনা চলবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও যোগ দেবেন।
আরও
হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘যে কোনো উপায়ে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।’ তাদের বক্তব্য, ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই— যা মূলত ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্র করার শর্তেরই জবাব। হামাস নেতা ফাওজি বারহুম বলেন, তারা যুদ্ধের অবসান ও ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চান। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় এ সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ নেই।
আলোচনায় বন্দি বিনিময় ও সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। সংগঠনের শীর্ষ আলোচক খালিল আল-হায়্যা বলেছেন, তারা ইসরায়েলের ওপর ভরসা করতে পারেন না, কারণ অতীতে দেশটি কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গাজা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ফিলিস্তিনিরা বারবার প্রতারিত হয়েছে।











