পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। তিনি এই চুক্তিকে অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ধীরে ধীরে কমছে।
ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক এই জেনারেল জানান, তেহরান, ইসলামাবাদ ও রিয়াদের পাশাপাশি ইরাককেও নিয়ে একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা যেতে পারে। তার মতে, ইরান-সৌদি-পাকিস্তান-ইরাকের অংশগ্রহণে একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ইসলামিক বিশ্বের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।
সম্প্রতি রিয়াদে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)-এ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলাকে পারস্পরিক আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল একে কয়েক দশকের পুরনো নিরাপত্তা সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো বলে আখ্যা দিয়েছে।
আরও
এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে যে, পাকিস্তান সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দ্রুতই সেই জল্পনা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বিক্রির বিষয় নেই।
বিশেষজ্ঞরা এই চুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বলে মনে করছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব কমছে। এই প্রেক্ষাপটে জেনারেল সাফাভি মন্তব্য করেন, এখনই সময় আঞ্চলিক ইসলামিক জোট গড়ে তোলার।











