গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) শীর্ষ নেতারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে প্রাথমিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল। বৈঠকটি কাতারে ইসরায়েলের হঠাৎ হামলার প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশের নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
হামলার পর সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে আগে জানত না, যা কিছু বিশ্লেষককে সৌদি–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রতি প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কমাতে নয়, বরং তা আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সময়ের সাথে প্রায়ই অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়েছে। অতীতে ইরান ও তার মিত্ররা আক্রমণ চালিয়েছে, এবং সম্প্রতি কাতারে হামাসের মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলার সময়ও তা লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যা বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের সময়ও বিরাজমান ছিল।
আরও
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা ও কর্মকাণ্ড জিসিসি নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের ভূখণ্ড দখল, পশ্চিম তীরে প্রভাব বিস্তার—সবই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে। নেতানিয়াহুর পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র একতরফাভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন আরব ও উপসাগরীয় অংশীদারদের আশ্বস্ত করতে হবে এবং ইসরায়েলকে সীমার মধ্যে রাখতে হবে। অন্যথায়, সৌদি–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশলগত প্রভাব হ্রাস পেতে পারে।












