মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে উঠেছে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার পাশাপাশি কাতার, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেনেও ইসরায়েলের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারাবাহিক হামলা পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে দেওয়ার মতো সংকট তৈরি করছে।
গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েক মাস ধরে চলমান অভিযানে শত শত সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রও রেহাই পাচ্ছে না। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের লক্ষ্য কেবল সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের ঘাঁটি ও অবকাঠামো।
এ সংঘাত এখন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ তীব্র হচ্ছে। একইভাবে সিরিয়ার হোমস ও লাতাকিয়ায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কাতার ও তিউনিসিয়াতেও হামাসপন্থী নেতাদের টার্গেট করে আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এতে আরব বিশ্বের জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সংকটে পড়েছে।
আরও
অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতিরা ইসরায়েলের স্বার্থে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। বিশেষ করে রেড সি এলাকায় তাদের সক্রিয়তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিশ্ব তেলবাজার ও পণ্য পরিবহনেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিভক্তি স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে মতভেদ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন আরব দেশগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে নতুন মেরুকরণ গড়ে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মুখে পড়বে।











