বিয়ের আশ্বাস ও নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম সংবাদমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হিরো আলমের বিরুদ্ধে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল এবং সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক শুনানি শেষে হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। ভুক্তভোগী সাদিয়া রহমান মিথিলা গত বছরের ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বগুড়ার আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে হিরো আলম তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন। পাশাপাশি তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানালে আদালত পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এর আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন হিরো আলম। তিনি সে সময় মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া দাবি করে বলেছিলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি এলাকায় ভোট দিতে যাবেন, কারণ ভোট দেওয়া তাঁর নাগরিক অধিকার। নির্বাচনের পর আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, রাজনীতি নিয়েও সম্প্রতি বেশ আলোচনায় ছিলেন হিরো আলম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আমজনতার দল’-এর হয়ে মনোনয়ন চাইলেও, এবার তিনি এনসিপি থেকে নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। তবে নতুন এই আইনি জটিলতায় তাঁর সেই রাজনৈতিক তৎপরতা বড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করা হচ্ছে।











