Long Popup (2)
সর্বশেষ

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

Image 292682ProbashircityWebPopupUpdate

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশকে ফোন করে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কাঠগড়ায় হাজির হননি। তাঁর আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তাঁর মক্কেল চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। তবে অভিযুক্তের আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

Img 1779164219 6a0be43b47ed2

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় এক দশক আগে এই পরিবার বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নিহত নারী। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে তাঁর দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। জানা গেছে, নিহত দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই বাড়িতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তাঁর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও নেই। পাশাপাশি পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও আগে থেকে কোনো যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল না বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সব সময় হাসিখুশি থাকত এবং প্রায়ই তাদের বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত ‘অপারেশন অ্যামারক’ অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate