পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার তরুণ শরিফুল ইসলাম ফকির (২৬)। আগামী কোরবানির ঈদে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নির্মাণাধীন একটি প্রকল্পে মাটিধসে প্রাণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরতে হলো এই তরুণকে। গতকাল শনিবার তাঁর নিথর দেহ নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার বর্ণিতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় আকস্মিক মাটিচাপায় নিহত হন শরিফুল। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তাঁর সব স্বপ্ন নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে অকালে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর শরিফুলের মৃত্যুর খবরটি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে (চ্যানেল এস) প্রচারিত হলে তা গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসনের সরাসরি উদ্যোগে মালয়েশিয়া থেকে শরিফুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আরও
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ পৌঁছায়। এরপর শনিবার কফিনবন্দি মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে জানাজা শেষে চোখের জলে শরিফুলকে স্থানীয় বর্ণি পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।










