Long Popup (2)
সর্বশেষ

যুদ্ধের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত : পাকিস্তান

Image 288957ProbashircityWebPopupUpdate

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানী ইসলামাবাদে ‘মারকা-ই-হক’ বা সত্যের যুদ্ধের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে জানান, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুমাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বড় শত্রুকে পরাজিত করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শিফাত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজীও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক সংঘাতের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ফলাফল বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ফলাফল হলো—পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে তুলে ধরার যে ভারতীয় বয়ান ছিল, তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। উল্টো তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ভারতের সামরিক নেতৃত্বকে বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাজনীতিকরা সামরিক মানসিকতা ধারণ করছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর মতে, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন আড়াল করতেই বাইরের ইস্যুকে ব্যবহার করছে এবং রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে কাজে লাগাচ্ছে। বিশ্ব এখন ভারতের এই তথ্যযুদ্ধ ও গণমাধ্যমের আসল চেহারা বুঝতে পেরেছে এবং পাকিস্তান এই অঞ্চলে নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সামরিক সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ‘মারকা-ই-হক’-এ পাকিস্তানের যে সামরিক শক্তি দেখা গেছে, তা তাদের পুরো শক্তির মাত্র ১০ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একাধিক অস্ত্রের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যার মধ্যে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, সেনাবাহিনীর রকেট ফোর্স কমান্ড, যুদ্ধ ট্যাংক, দূরপাল্লার কামান, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রো-অপটিক্যাল উপগ্রহ উল্লেখযোগ্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের সুযোগ আছে বলে যারা মনে করে, তারা পাগল। তবে কেউ যদি আমাদের পরীক্ষা করতে চায়, তাদের স্বাগত।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতকে শিক্ষা দেওয়ার পর তারা আবার পুরোনো পন্থায় ফিরে গিয়ে আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে, যার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সফলভাবে অভিযান চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নৌবাহিনীর দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে রিয়ার অ্যাডমিরাল শিফাত আলী বলেন, এই ঐতিহাসিক সংঘাতে ভারতীয় নৌবাহিনী নিজেদের শক্তি নিয়ে বড়াই করলেও তারা বাস্তবে কোনো সাহস দেখাতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, সংঘাত চলাকালে ভারতীয় নৌবাহিনী সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উত্তর আরব সাগরে জাহাজ মোতায়েন করলেও পাকিস্তান নৌবাহিনীর কার্যকর কৌশল ও নজরদারির কারণে সব সামুদ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভারতীয় বিমানবাহী রণতরী ‘বিক্রান্ত’ ধ্বংস করতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ভারতীয় নৌবাহিনী ভয়ে নিরাপদ সীমার বাইরে আসেনি। পরিশেষে আইএসপিআর ডিজি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ চায় না, তবে সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate