এক চাঞ্চল্যকর ও ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে। সেখানে এক নারী থানায় গিয়ে নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন—তবে অভিযোগের বিবরণ আরও বিস্ময়কর। তার দাবি, স্বামীর ওপর ভর করা এক ‘জিন’ তাকে বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার করেছে। পাকিস্তানভিত্তিক দৈনিক দ্য ডন রোববার (১৬ নভেম্বর) এই ঘটনা প্রকাশ করেছে।
পাঞ্জাবের ভাদর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী ওই নারী গত বৃহস্পতিবার কাকরালি থানায় দায়ের করা এফআইআরে পাকিস্তান পেনাল কোডের ৩৭৬ ধারা—ধর্ষণের অভিযোগ—উঠিয়েছেন। এফআইআর অনুযায়ী, তার ১৮ বছর বয়সী স্বামী তাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছেন। তবে ওই নারীর দাবি, প্রকৃতপক্ষে স্বামীর ওপর ভর করা ‘আদিল’ নামের একটি জিন এসব ঘটনার জন্য দায়ী।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, জিনটি তার প্রতি ‘আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে’ এবং স্বামীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তাকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করে। তার ভাষ্য, জিনটির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্বামী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না। এসব ঘটনার কারণে তার সংসারজীবন ভেঙে পড়েছে বলে তিনি জানান।
আরও
মামলার তদন্তের বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ গুরুত্বসহকারে দেখছে বলে জানিয়েছে। অভিযোগটি অস্বাভাবিক হলেও যেহেতু নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পাকিস্তানে জিন বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ খুব বিরল নয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে লাহোর হাইকোর্টে নিখোঁজ এক নারীর সন্ধান চেয়ে করা আবেদনে ভুক্তভোগীর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দাবি করেছিল—তাদের বাড়ির পুত্রবধূকে ‘একটি জিন অপহরণ করেছে’। এই ঘটনাও সেই ধরনের অতিপ্রাকৃত দাবির নতুন উদাহরণ বলেই মনে করা হচ্ছে।











