টানা বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল সরাসরি তাকে ক্ষমতা ছাড়ার পরামর্শ দেন। এরপরই পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতা ছাড়ার পর ওলি সেনাবাহিনীর কাছে দেশ থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সহায়তা চান। নেপালি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসার অজুহাতে তিনি দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং এ জন্য হিমালয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে নেপালের সচিবালয় এক বিবৃতিতে ওলির পদত্যাগ নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, চলমান সংকটের সাংবিধানিক সমাধানের পথ সুগম করতেই তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে তিনি সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের কথা বলেছিলেন।
আরও
কিন্তু তার পদত্যাগের আগেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ সারাদেশে বিক্ষোভকারীরা একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা চালায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনও আক্রান্ত হয়। সরকারি হাসপাতালের তথ্যমতে, মঙ্গলবারের সহিংসতায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ৯০ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের পর আন্দোলন আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওলির পদত্যাগ নেপালের চলমান রাজনৈতিক সংকটে নতুন মোড় আনতে পারে।












