মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান প্রদেশের সেরেমবান এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ বাংলাদেশিসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে সেরেমবানের তিনটি পৃথক স্থানে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার এই অভিযানে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইন্দোনেশীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারাও সহায়তা করেন। আটককৃতদের মধ্যে সাতজন স্থানীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, ১২ জন বাংলাদেশি এবং তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের বয়স ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।
অভিবাসন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দৈনিক ও সাপ্তাহিক চুক্তিতে হোস্টেল ও বাজেট হোটেলে বিদেশি নারীদের রেখে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ‘ক্যাপ্টেন’ বা ব্যবস্থাপক হিসেবে পুরো কার্যক্রমটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। চক্রটি প্রতি সেবার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ রিঙ্গিত করে আদায় করত এবং স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিরাও তাদের গ্রাহক ছিলেন। গত প্রায় এক বছর ধরে সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত এই অবৈধ ব্যবসা থেকে চক্রটি বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত মুনাফা করত বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ও বিধিমালার একাধিক ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন স্থানীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে এক ধারায় এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিন্ন ধারায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সবাইকে অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।











