মালয়েশিয়ার পাহাড়ি এলাকার গহিন পামবাগানে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি তরুণীসহ ২১৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মধ্যরাতে সেলাঙ্গর রাজ্যের সেটিয়া আলম এলাকায় ইমিগ্রেশন বিভাগের নেতৃত্বে ‘অপ বেরসেপাদু মেগা’ নামের এই বড় আকারের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
সেলাঙ্গরের ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, অভিযানে মোট ৩৫৬ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২০ জন পুরুষ, ৬৫ জন নারী এবং ২৯ জন শিশু রয়েছে। তাদের বয়স এক মাস থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। আটক এই অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক বাংলাদেশি তরুণীদের বড় একটি অংশ স্থানীয় এলাকায় দিনমজুর ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় ৪০০ মিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। রাতের অন্ধকার ও বিষধর প্রাণীর ঝুঁকি উপেক্ষা করে চালানো এই অভিযানে দেখা যায়, বসতিগুলো ছিল অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। সেখানে উপাসনালয়, মুদিদোকান, বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা ছিল। এমনকি সরকারি ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার ও ডিজেল ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে। পালানোর জন্য বসতির চারপাশে একাধিক গোপন পথ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া সেখানে মোরগ লড়াইয়ের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।
আরও
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, গত ৫ থেকে ৯ বছর ধরে দুর্গম এই এলাকায় অবৈধভাবে এই বসতিগুলো গড়ে উঠেছিল। এসব বসতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এক বা একাধিক ‘তদারককারী’ ছিল, যারা নিয়মিত বাসিন্দাদের কাছ থেকে ভাড়াও আদায় করত। এই যৌথ অভিযানে শাহ আলম সিটি কাউন্সিল, জেনারেল অপারেশনস ফোর্স, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও সিভিল ডিফেন্স ফোর্স অংশ নেয়। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমানে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়েছে।










