স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে শ্রমশক্তিতে বিদেশি কর্মীদের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পেশাদার বা প্রফেশনাল ভিসায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। চলতি বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নিয়মে প্রফেশনাল ভিসার তিনটি ক্যাটাগরিতেই ন্যূনতম বেতনের সীমা একলাফে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ক্যাটাগরি-১ বা উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন হতে হবে ২০ হাজার রিঙ্গিত। এর পাশাপাশি ক্যাটাগরি-২ বা মধ্যম পর্যায়ের পেশাদারদের বেতনসীমা ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত এবং ক্যাটাগরি-৩ বা দক্ষ কর্মীদের বেতন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে দক্ষ কর্মীদের ভিসার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং এই শ্রেণির কর্মীরা দেশটিতে পরিবার নিয়ে থাকার কোনো সুযোগ পাবেন না।
মালয়েশিয়া সরকারের এমন আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্তে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী পেশাজীবীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং তেল-গ্যাস খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে কর্মরত দক্ষ বিদেশি কর্মীরা এখন বিকল্প গন্তব্য হিসেবে ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
আরও
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারের এই পদক্ষেপের বিষয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি না করে হঠাৎ এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলে দেশের সার্বিক উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও ব্যবসার খরচ বৃদ্ধিরও প্রবল ঝুঁকি রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনীতির ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।










