মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের জাল ভিসা তৈরির অভিযোগে এক বাংলাদেশি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অপরাধে তাঁদের ১ লাখ ১২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং অনাদায়ে ৪৫ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন মালয়েশিয়ার একটি আদালত। সাজা ভোগ শেষে তাঁদের আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুরের অভিবাসন বিভাগ এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের গোয়েন্দা নজরদারির পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরের সুঙ্গাই বেসি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জাল ভিসা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ। এসব সরঞ্জামের মধ্যে বেশ কিছু বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিভিন্ন দেশের ভুয়া রাবার স্ট্যাম্প, জাল ইমিগ্রেশন স্লিপ, ল্যাপটপ এবং ভিসা তৈরির আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাঁদের বয়স ৩০-এর কোঠায়।
জানা গেছে, গত আট মাস ধরে অত্যন্ত গোপনে এই জাল ভিসার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তাঁরা। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা তৈরি করতেন এই দম্পতি। প্রতিটি জাল ভিসার বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে তাঁরা প্রায় ২০ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা) হাতিয়ে নিতেন। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি এত নিখুঁতভাবে ভিসা জালিয়াতি করত যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা ধরা প্রায় অসম্ভব ছিল, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আরও
গ্রেপ্তারের পর গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কুয়ালালামপুর আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে আদালতের সামনে তাঁরা নয়টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। এরপর আদালত তাঁদের মোট ১ লাখ ১২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং অনাদায়ে ৪৫ মাসের কারাদণ্ড দেন। সাজা ভোগের পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এই ঘটনার পর মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশটিতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।











