মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ৫০ দিনে (১ জানুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৪৩ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন। তবে ঠিক কোন দেশের কতজন নাগরিক আটক হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অভিযান) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাঁরা অভিবাসন আইন ও বিধি লঙ্ঘন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখা সারা দেশে মোট ১ হাজার ৮৫৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ৩০ হাজার ১৭৭ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ওই ৭ হাজার ৪৩ জনকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের দায়ে আটক করা হয়।
আরও


আটক বিদেশিদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি প্রধান ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০৪টি মামলা হয়েছে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৬(১)(সি) ধারায়, যা বৈধ পাস বা ভ্রমণ নথি ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অপরাধে প্রযোজ্য। এ ছাড়া অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করার কারণে ১৫(১)(সি) ধারায় ১ হাজার ২৫০টি এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের কারণে ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালার ৩৯(বি) বিধি অনুযায়ী ৮০৬টি মামলা হয়েছে। বাকি ১৮৩টি মামলা অন্যান্য অপরাধের আওতায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। আটক বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভারত ও চীনের নাগরিকেরা রয়েছেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের ধরপাকড় ও অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে কারও কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগের এই কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়।











