মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান থেকে বাঁচতে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছেন দুই বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশটির তেরেঙ্গানু রাজ্যের লেম্বাহ বিডং এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। উত্তাল সমুদ্রে প্রায় দুই ঘণ্টা ভেসে থাকার পর ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় একটি নির্মাণ সাইটে অতর্কিত অভিযান চালায় তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময় ৩০ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার এড়াতে সৈকত ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের নাগাল থেকে বাঁচতে তারা একপর্যায়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে গভীর সমুদ্রের দিকে চলে যান। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত ককশিট বা স্টাইরোফোমের টুকরোকে ভেলা হিসেবে আঁকড়ে ধরে তারা প্রাণ বাঁচানোর সংগ্রাম করছিলেন।
পলাতক এই দুই প্রবাসীকে খুঁজে বের করতে ইমিগ্রেশন বিভাগ ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি শুরু করে। ড্রোনের ফুটেজে উপকূল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মাঝখানে তাদের ভাসমান অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিভিল ডিফেন্স ফোর্স এবং স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করে উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়। উদ্ধারের সময় তারা চরম ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত ছিলেন; তাদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও পানীয় সরবরাহ করা হয়।
আরও
তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর মোহদ ইউসরি মোহদ নর জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজনের কোনো বৈধ নথিপত্র ছিল না এবং অন্যজন ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া, ওই দিন লেম্বাহ বিডং এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মোট ৩১৬ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি, ৩ জন ইন্দোনেশীয় এবং ১ জন ভারতীয়সহ মোট ২২৬ জনকে আটক করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় আজিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।












