মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান মালুরি অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান পরিচালিত হয় তামান মালুরির বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, এলাকাটিতে বিদেশি নাগরিকদের আধিপত্য ও অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদরদপ্তরসহ নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের মোট ২৭৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর আরও ১০ জন কর্মকর্তা সহায়তা করেন। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে মোট ১,০৮৭ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।
আরও
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অনেকের বৈধ পরিচয়পত্র নেই, কেউ পাসের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেছেন কিংবা স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহন করছিলেন। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।











