মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশিসহ অন্তত ৮৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। যথাযথ কাগজপত্র ও বৈধ ভিসা না থাকায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় পরিচালিত এসব অভিযানে জোহর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যে বৃহৎ পরিসরে তল্লাশি চালানো হয়।
জোহর রাজ্যের টামান পেলাঙ্গি ও টামান মোলেক এলাকায় ‘অপস সেলেরা’ অভিযানে মোট ৪৩ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের ১৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১৭ জন, পাকিস্তানের ২ জন, ভারতের ৩ জন এবং নেপালের ৫ জন রয়েছেন। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। জোহর ইমিগ্রেশনের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, অভিযানে বিদেশি শ্রমিকের নথিপত্র, নিয়োগদাতার রেকর্ড, ভ্রমণ দলিল ও কাজের পারমিট যাচাই করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে চারজন স্থানীয় নাগরিককেও আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পরিচালক আরও জানান, অবৈধ কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয়দাতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জোহর ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে পাঁচটি সাকসামন নোটিশ (ফর্ম ২৯) জারি করা হয়। আটককৃতদের সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ ও রেগুলেশন ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
আরও
একই দিন নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের একটি নির্ধারিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। এ অভিযানে ১২০ জন শ্রমিককে যাচাই করা হয়। ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনেথ তান আই কিয়াং জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিকসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ৩৬ জন, নেপালি ২ জন এবং পাকিস্তানি ৩ জন রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু শ্রমিকের অস্থায়ী কাজের অনুমতি থাকলেও তারা অনুমোদিত খাতের বাইরে কর্মরত ছিলেন—যা আইন লঙ্ঘনের শামিল। আটককৃত সবাইকে লেঙ্গেং ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া জনগণকে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।












