মালয়েশিয়ার জোহর বারুতে ৩৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি শ্রমিক সবুজ আলির মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি একটি নির্মাণ সাইটে কাজ করতেন এবং সেখানেই গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে।
সহকর্মীদের দাবি, সবুজ আলি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতা ও প্রবাস জীবনের চাপের মধ্যে ছিলেন। অনেকের মতে, এটি আত্মহত্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে কিছু প্রবাসী সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন—সবুজ আলির কর্মস্থলের ভারতীয় বসের সঙ্গে কোনো বিরোধ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা অমানবিক আচরণ এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। তারা জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে ময়নাতদন্ত, কর্মস্থলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সাইটের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আরও
মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী শ্রমিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসে অতিরিক্ত শ্রমঘণ্টা, কঠোর কর্মপরিবেশ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনেক শ্রমিককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এসব কারণ অনেক সময় আত্মহত্যা বা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর মতো ঘটনার দিকে ঠেলে দেয়।
সবুজ আলির মৃত্যুর খবর তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনা মালয়েশিয়ায় কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি আবারও জোরালো করেছে।













