মালয়েশিয়ায় সীমান্তে প্রবেশসুবিধা দেওয়ার নামে ঘুষ-ঘোটালার এক বড় নেটওয়ার্ক ধসে পড়েছে — বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনকে। দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘অপারেশন রেন্টাস’ নামের এই সূচিত অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে ১৮ জন এনফোর্সমেন্ট অফিসার, পাঁচজন কোম্পানি মালিক এবং আরও কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। সংস্থাটি জানায়, অভিযানের সময় বহু সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
রেইডে মোট ৫৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (৪৮টি ব্যক্তিগত ও ৯টি কোম্পানির) তল্লাশি করে রাখা হয়েছে; এগুলোর মূল্য ২.৭ মিলিয়ন রিঙ্গিতেরও বেশি। সঙ্গে পাওয়া গেছে নগদ প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিত, বিলাসবহুল গাড়ি, মোটরসাইকেল, সোনার বার-গহনা, ঘড়ি, ব্যাগ ও বিভিন্ন টেলিকম ডিভাইস। অভিযানে আটককৃত কর্মকর্তারা একেপিএস (সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থার) এক থেকে নয় পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
দুর্নীতি-চক্রের কাজ করার পদ্ধতিও স্পষ্ট হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার তান শ্রী আজম বাকি বলছেন, দালাল ও এজেন্টরা বিদেশিদের পাসপোর্ট নম্বর, টিকিটসহ সব তথ্য সরবরাহ করতেন; এরপর ঠিক করা কাউন্টারগুলোতে যাচাই ছাড়াই তাদেরই প্রবেশ অনুমোদন দেওয়া হতো। প্রতি কেসে প্রত্যেক বিদেশীর কাছ থেকে ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ রিঙ্গিত গ্রহণ করা হতো এবং একেকজন কর্মকর্তা মাসে গড়ে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ঘুষ নিতেন।
আরও
বিভিন্ন পর্যায়ের বিশ্লেষকরা এই ঘটনার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক আইন উপদেষ্টা দাতুক সেলভরাজ বলেন, সীমান্তে এমন দুর্নীতি শুধু অপরাধীদের নয়, সন্ত্রাসীদেরও দেশে প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে — ফলে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমস্যা বাড়বে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযানের পরবর্তী ধাপে কারা-কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











