ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন উৎপাদন ইউনিট সম্পর্কে তথ্য দিলে দেড় কোটি (১৫ মিলিয়ন) ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৫ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই বিপুল অঙ্কের পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বলা হয়েছে, মূলত আইআরজিসির আর্থিক কাঠামোতে আঘাত হানতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির কুদস ফোর্সের এই ড্রোন উৎপাদন ইউনিটটি ‘কিমিয়া পার্ট সিভান কোম্পানি (কেআইপিএএস)’ নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ছয়জন ব্যক্তির সন্ধান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ব্যক্তিরা কেআইপিএএসের ড্রোন পরীক্ষা, উন্নয়ন ও সরবরাহের মতো স্পর্শকাতর কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জাতীয় নিরাপত্তা পুরস্কার কর্মসূচির এক বার্তায় বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি, তাদের সহযোগী বা তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে সর্বোচ্চ দেড় কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ এবং চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ পরিস্থিতি ও চলমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট উত্তেজনার বিষয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আরাগচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট কোনো ধরনের বিঘ্নের জন্য ইরান দায়ী নয় এবং তেহরান নিজ থেকে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। বরং তারা কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর’ জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি সব সময়ই উন্মুক্ত, তবে সেসব জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে। এই কৌশলগত নৌপথ কেবল ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্যই বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।










