ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশ হত্যা ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে দেশটির বিচার বিভাগ এই দণ্ড কার্যকর করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’–এর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি বছরের শুরুতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে ওই তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে সুনির্দিষ্ট নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও গুরুতর অভিযোগ ছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানে কথিত ‘মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার’ ২০তম দিনে এসে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা প্রকাশ্যে এল।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ইরান সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে। তেহরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভজনিত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনেই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। যদিও ইরান সরকার বরাবরই এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আরও
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬ হাজার ৮৭২ জন। এ ছাড়া আরও ১১ হাজার মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূতের (স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার) আশঙ্কা, ইরানে কঠোর ইন্টারনেট সেন্সরশিপের কারণে হতাহতের প্রকৃত তথ্য অনেকটাই আড়ালে রয়ে গেছে। তাঁর মতে, প্রকৃতপক্ষে দেশটিতে এই নিহতের সংখ্যা ২০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।












