ইরানের মধ্যাঞ্চলে ইস্পাহান প্রদেশের দরচেহ শহরে একটি ফলের বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটা এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন সামরিক পাইলট এবং দুজন স্থানীয় ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে উড্ডয়নের সময় কারিগরি ত্রুটিকে এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দরচেহ শহরের ওই অঞ্চলে ইরানি সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফলের বাজারের ওপর আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই এতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দুর্ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও উদ্ধারকারীদের তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।
ইরান সেনাবাহিনীর এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এক বিবৃতিতে নিহত পাইলটদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাঁরা হলেন হেলিকপ্টারের পাইলট কর্নেল হামেদ সারভাজাদ এবং কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি। দুর্ভাগ্যবশত বাজারের নিজ নিজ দোকানে কাজ করার সময় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দুই ব্যবসায়ী। স্থানীয় বিচার বিভাগের প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে তাদের কাজ শুরু করেছে।
আরও
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের পুরোনো সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজের বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহেই দেশটির হামাদান প্রদেশে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৪ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিধ্বস্ত হয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটা ওই ঘটনায় একজন পাইলট ইজেক্ট করে প্রাণে বেঁচে গেলেও অন্যজন নিহত হন। পুরোনো বহর বদলাতে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু যুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ বিমান কিনলেও উন্নত প্রযুক্তির সু-৩৫ যুদ্ধবিমান এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি।











