যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা এক শীর্ষ প্রশিক্ষক পাইলট নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক চরম বৈরিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই ইরানের আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। যুদ্ধবিমানটি একটি নৈশকালীন প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নিয়েছিল। উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ করেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভূপাতিত হয়। এতে বিমানে থাকা দুই বৈমানিকের মধ্যে একজন নিহত হন, যিনি বিমানবাহিনীর অন্যতম শীর্ষ প্রশিক্ষক পাইলট ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর অপর পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে এই যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা জানতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে কারিগরি বা যান্ত্রিক ত্রুটি বলে ধারণা করা হলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র।
আরও
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের কারণে ইরানের বিমানবাহিনীর অবস্থা বেশ নাজুক। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে পুরোনো যুদ্ধবিমানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে এমন যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা নতুন নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সামরিক সংঘাতের হুমকি ঝুলছে, এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে এই দুর্ঘটনা নিঃসন্দেহে তেহরানের জন্য বড় একটি ধাক্কা।











