দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে আরও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা যায় এবং গুলির শব্দের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালায়।
এর আগে চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লরদেগান শহরে বিক্ষোভে আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর আসে। সংবাদমাধ্যম জানায়, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ গভর্নরের কার্যালয়, মসজিদ, শহর হল ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় পাথর নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
আরও
এদিকে পশ্চিম ইরানের কুহদাশত শহরে রাতভর বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। নিহত ওই ব্যক্তি ২১ বছর বয়সী বাসিজ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। বাসিজ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, রোববার থেকে মুদ্রার দরপতন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দোকানিরা আন্দোলনে নামার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির মুখে রয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সংকটকে আরও গভীর করেছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এবারের বিক্ষোভে সরকার তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং জনগণের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ লাঘবে সমাধান খোঁজার আশ্বাস দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবিকে ‘ন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। একই সঙ্গে সরকার সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতিকে অস্থিরতা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












