শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা রক্ষায় শাসন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুলে ঢুকে দুই শিক্ষককে কোমরের বেল্ট খুলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বাবার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন চলাকালে শ্রেণিকক্ষে হট্টগোল ও অশোভন আচরণের কারণে এক শিক্ষার্থীকে শাসন করেছিলেন এক শিক্ষক। এরই জেরে ওই শিক্ষার্থী বাবাকে স্কুলে ডেকে আনলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন তুমুল হট্টগোলের মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক অরুণ দাস রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলেন। শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে তিনি দু-একজনকে শাসন করেন। অভিযোগ উঠেছে, এরপরই দেবব্রত দাস নামের এক অভিভাবক হঠাৎ প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। সেখানে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি নিজের কোমর থেকে বেল্ট খুলে শিক্ষক অরুণ দাসকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁকে আটকাতে এগিয়ে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমরেশ চন্দ্র মণ্ডলও বেল্টের আঘাতে আহত হন।
এই ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষক সমরেশ চন্দ্র মণ্ডল হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম শাসন করার কারণে যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত অভিভাবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষকেরা, যার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।










