ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে বিয়ের নামে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের আসরে যে ব্যক্তি কনের ‘ভাই’ হিসেবে উপস্থিত থেকে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলেন, বিয়ের পর জানা যায় তিনিই মূলত ওই নারীর প্রকৃত স্বামী। এমন অবিশ্বাস্য প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কনে এবং তাঁর প্রথম স্বামীসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবদন এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা পেশায় জবলপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী। পরিবারের সদস্যদের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাওয়ায় তাঁরা রতনের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজছিলেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারির মাধ্যমে রতনদের সঙ্গে পরিচয় হয় অজয় চৌহান নামের এক ব্যক্তির। অজয় প্রতারণার ছক কষে দীক্ষা মুদগাল নামের এক নারীকে নিজের দরিদ্র পালিত বোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং রতনের পরিবারও এই প্রস্তাবে সরল বিশ্বাসে রাজি হয়ে যায়।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ মে হিন্দু রীতি মেনে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই রতন ও দীক্ষার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগের ও পরের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতায় কনের ‘ভাই’ হিসেবে মূল দায়িত্ব পালন করেন অজয়। এছাড়া প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা কনের মা ও আত্মীয়স্বজন সেজে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এই বিয়ের সার্বিক আয়োজন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে রতনের পরিবারের প্রায় সাত লাখ রুপি ব্যয় হয়।
আরও
বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে কনে দীক্ষা সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত থাকলে রতন ও তাঁর পরিবারের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে স্ত্রীর ফোন তল্লাশি করে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের সূত্র ধরে রতন এই প্রতারণার আসল রহস্য উন্মোচন করেন। তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রীর তথাকথিত ‘ভাই’ অজয় চৌহান আসলে দীক্ষার প্রকৃত স্বামী এবং ২০২৪ সালে আগ্রার একটি মন্দিরে তাঁদের আগেই বিয়ে হয়েছিল।
মূলত বিয়ের নামে নগদ অর্থ ও মূল্যবান গহনা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই চক্রটি এই সুপরিকল্পিত ফাঁদ পেতেছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী রতন শর্মা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রতারক কনেকে সরাসরি থানায় নিয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত কনেকে ওয়ান-স্টপ সেন্টারে পাঠিয়েছে এবং মূল হোতা স্বামী অজয় চৌহানকে গ্রেপ্তার করেছে। চক্রের পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










