ভারতের ওড়িশার কেউনঝড় জেলায় ব্যাংকে গচ্ছিত মাত্র ১৯ হাজার ৩০০ টাকা তুলতে নিজের মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে হাজির হয়েছেন এক ব্যক্তি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, সোমবার (২৭ এপ্রিল) ডিআনালি গ্রামের বাসিন্দা জিতু মুন্ডা নামের ওই ব্যক্তি তাঁর বোনের কঙ্কাল নিয়ে তিন কিলোমিটার তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে হেঁটে ব্যাংকে পৌঁছালে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ব্যাংকের চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে এক অসহায় ভাইয়ের এমন কাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, জিতুর বোন কাকরা মুন্ডা প্রায় দুই মাস আগে মারা যান। তাঁর স্বামী ও একমাত্র সন্তান আগেই মারা যাওয়ায় জিতুই ছিলেন তাঁর একমাত্র জীবিত নিকটাত্মীয়। মল্লিপাসি এলাকার ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকে কাকরার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল, যেখানে জমানো ছিল ওই ১৯ হাজার ৩০০ টাকা। বোনের মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় জিতু সেই টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক ম্যানেজার তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন যে, টাকা তুলতে হলে হয় অ্যাকাউন্টধারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে, অথবা তাঁকে বৈধ উত্তরাধিকার সনদ (সাকসেশন সার্টিফিকেট) দেখাতে হবে।
অশিক্ষিত ও চরম দরিদ্র জিতুর কাছে বোনের মৃত্যু সনদ বা উত্তরাধিকার প্রমাণের মতো আইনি ও জটিল কোনো কাগজপত্র ছিল না। ব্যাংকের এমন অনমনীয় মনোভাব ও আইনি জটিলতায় দিশেহারা হয়ে তিনি এক অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন। কোনো আইনি উপায় না পেয়ে তিনি গ্রাম্য শ্মশানে গিয়ে মাটি খুঁড়ে নিজের বোনের কঙ্কাল বের করেন এবং তা একটি কাপড়ে জড়িয়ে কাঁধে তুলে নেন। এরপর প্রখর রোদের মধ্যে টানা তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে সেই কঙ্কাল নিয়ে সোজা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে উপস্থিত হন তিনি।
আরও
ব্যাংকের ভেতরে মৃত মানুষের কঙ্কাল নিয়ে আসার এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত গ্রাহক ও স্থানীয়রা রীতিমতো হতভম্ব হয়ে পড়েন। তাঁরা দরিদ্র এই ব্যক্তির প্রতি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন চরম অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গ্রামবাসীদের মতে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাইলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরপঞ্চের মাধ্যমে সহজেই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারত। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে জিতুকে শান্ত করে এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে পুরো বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে এমন আচরণের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।










