বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জাতীয় মহাসড়কে অবতরণ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী সি-১৩০জে বিমান। সফরের শুরুতে তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে জাতীয় সড়ক-৩৭-এর মোরান অংশে নির্মিত রানওয়েতে অবতরণ করেন। বাংলাদেশ ও চীন সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে কৌশলগত অবকাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই অবতরণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসামের ডিব্রুগড় জেলায় নির্মিত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রানওয়েটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ। প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই বাইপাসটি জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অবকাঠামোটি ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ডিব্রুগড় থেকে চীন সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সিলেট ও রংপুর সীমান্ত যথাক্রমে ৬০০ ও ৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায়, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সামরিক ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোদির অবতরণের পরপরই সেখানে প্রায় ৪০ মিনিটের একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই-৩০ এমকেআই, রাফাল এবং তেজসের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবনির্মিত এই রানওয়েটি অত্যন্ত শক্তিশালী, যেখানে সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন পর্যন্ত ভারী পরিবহন বিমান অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে। মূলত প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতেই এই বহুমুখী রানওয়ে তৈরি করা হয়েছে।
আরও
রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সামরিক অবকাঠামো পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি এই সফরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর গুয়াহাটি ও নর্থ গুয়াহাটিকে সংযুক্তকারী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি সেতু উদ্বোধন। এই প্রকল্পটি চালু হলে স্থানীয় যানজট নিরসনের পাশাপাশি নদীর দুই তীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।











