স্ত্রী রান্না করতেন না এমন অভিযোগে তিন বছরে তিনটি বিয়ে করার অভিযোগে বিহারের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম পিন্টু বার্নওয়াল। তিনি বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিন্টুর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন ও আইনগত বিচ্ছেদ ছাড়াই একাধিক বিয়ে করার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পিন্টুর প্রথম স্ত্রী খুশবু কুমারীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর। বিয়ের পর পারিবারিক কলহের জেরে খুশবুর পরিবার তিন লাখ টাকা, ২০ গ্রাম ওজনের হার, ১৫ গ্রাম ওজনের আংটি ও অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এরপরও খুশবুর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আরও
খুশবু দাবি করেন, কোনো ধরনের তালাক না দিয়েই পিন্টু দ্বিতীয় ও পরে তৃতীয় বিয়ে করেন। তার অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি ১০ মাসের সন্তান এবং তৃতীয় স্ত্রীর একটি এক মাসের সন্তান রয়েছে। পিন্টুর দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া কুমারীও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, বিয়ের পর তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ও একটি গাড়ি দাবি করা হয়। যৌতুক দিতে না পারায় তাকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তাকে না জানিয়ে ও তালাক না দিয়েই পিন্টু তৃতীয় বিয়ে করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিন্টু বার্নওয়াল। তার দাবি, যৌতুক নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন,
“আমার মা অসুস্থ ও বয়স্ক। প্রথম দুই স্ত্রী কেউই রান্না করত না। আমি আর আমার মা মিলে তাদের খাওয়াতাম। বাধ্য হয়েই আমাকে একাধিক বিয়ে করতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন এবং একসময় তার ও তার মাকে হত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে দাবি করেন। ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগগুলোকে তিনি “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেন। এদিকে উভয় স্ত্রীই পিন্টু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে বারবার বিয়ে করে একাধিক নারীর জীবন নষ্ট করেছেন পিন্টু।











