ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইজিআই) ও মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীচার্জ ২২ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। টেলিকম বিরোধ নিষ্পত্তি ও আপিল ট্রাইব্যুনালের (টিডিএসএটি) সাম্প্রতিক আদেশের পর এ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যাত্রী ফি বিমান ভাড়ার অংশ হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়বে টিকিটের দামে।
টিডিএসএটির আদেশ অনুযায়ী, দুটি বিমানবন্দরের পরিচালন সংস্থার কাছে বর্তমানে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে। এই অর্থ আদায় করা হবে যাত্রী উন্নয়ন ফি (ইউডিএফ), অবতরণ ফি ও পার্কিং চার্জের মাধ্যমে। তবে বিমানবন্দর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (AERA), লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স, গালফ এয়ারসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন সংস্থা ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে। বুধবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও নিলয় বিপিনচন্দ্র আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা।
আদেশ কার্যকর হলে, দিল্লি বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের ইউডিএফ বর্তমান ১২৯ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে ১,২৬১ টাকা। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ক্ষেত্রে এটি ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬,৩৫৬ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুম্বাই বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ইউডিএফ ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩,৮৫৬ টাকা এবং আন্তর্জাতিক ইউডিএফ ৬১৫ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে ১৩,৪৯৫ টাকা—যা যাত্রী ব্যয়কে বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।
আরও
সরকারি কর্মকর্তারা এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, চার্জের আকস্মিক এ বৃদ্ধি যাত্রী প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক বিমান ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের বোঝা যাত্রীদের ওপর চাপানো অনুচিত এবং যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাত্রীস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরগুলো একটি ‘ন্যাচারাল মনোপলি’ হওয়ায় এয়ারলাইনগুলোর টিকিটমূল্য বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকে না। ফলে আদেশটি কার্যকর হলে ভারতের বিমান ভ্রমণ বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।











