ভারতে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে স্ত্রী হত্যার একটি নৃশংস ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শ্রীপ্রিয়া নামে এক নারীকে হোস্টেল কক্ষে ঢুকে ধারালো দা দিয়ে হত্যা করেন তার স্বামী বালামুরুগান। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। হোস্টেলে প্রবেশের পর নিজের কাপড়ের ভেতরে লুকিয়ে আনা দা বের করে বালামুরুগান একের পর এক কোপাতে থাকেন স্ত্রীকে।
মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর বালামুরুগানের আচরণ আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলেই স্ত্রীর নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলেন এবং সেটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে আপলোড করেন। পরে তিনি পালিয়ে না গিয়ে স্বেচ্ছায় পুলিশের জন্য অপেক্ষা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল এবং তারা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। বালামুরুগানের দাবি, তিনি ধারণা করেছিলেন তার স্ত্রী তাকে প্রতারণা করছেন। তবে পুলিশ বলছে, এটি কেবলমাত্র প্রাথমিক তথ্য; ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরও
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড তামিলনাড়ুতে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনা তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, বর্তমান ডিএমকে সরকারের সময়ে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা দাবি করছে, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ব্যক্তিগত বিরোধের জের, এবং প্রতিটি অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় শাস্তির কঠোরতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তারা।












