ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, সরকারপ্রধান ও দলীয় সাধারণ সম্পাদক উস্কানিমূলক কথা বলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বিপদজনক মাত্রায় নিয়ে গেছেন। এই আন্দোলনে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা পরিষ্কার গণহত্যা। এর দায় প্রধানমন্ত্রী, তার মন্ত্রী পরিষদ এবং আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। দেশবাসীর কাছে এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে নজীরবিহীন দমনপীড়নে শিশু-কিশোর, নারীসহ এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক ছাত্র-জনতা হত্যার শিকার হয়েছেন, যা প্রতিদিন বেড়েই চলছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এতো ব্যাপক ও রক্তবহুল আন্দোলন আগে কখনও হয়নি।’
আরও
তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রতিহত করতে গিয়ে সরকার পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে এবং জনতার ওপরে ইসরাইলি কায়দায় বর্বর নির্মমতা চালিয়েছে। কোনও সভ্য-স্বাধীন দেশের জনতার সঙ্গে এ ধরণের নির্মমতা চালানো যায় না। অবিলম্বে গণহত্যার দায় নিয়ে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রিমান্ডের নামে চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এটা সংবিধান ও মানবতাবিরোধী।’
রাজনৈতিক নেতাদের আটক ও রিমান্ড বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নির্যাতন, হয়রানি ও তুলে নেওয়া বন্ধ করুন। নির্বিচারে গ্রেফতার বন্ধ করুন। নিহতদের পরিবারকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দিন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন এবং পঙ্গুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন।’
ইসলামী আন্দোলনের নেতা বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সরকারের পতনের একদফা দাবি নিয়ে ঐকমত্য রয়েছে। আমরাও সরকার পতনের একদফা দাবিতে একমত ছিলাম এবং আছি। এই জনবিচ্ছিন্ন সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনসহ দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণকে একতা গড়ে তোলার আহ্বান করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এম হাছিবুল ইসলাম, মাওলানা নূরুল করীম আকরাম, মুফতী রেজাউল করীম আবরার, ছাত্রনেতা নূরুল বশর আজিজী ও মুনতাছির আহমদ।












