পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে আর সচ্ছলতার আশায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরগুনার ইসমাইল হোসেন (৪০)। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় পাইপলাইনের কাজ করার সময় মাটিচাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত অভাবী পরিবারটির পক্ষে দেশে তাঁর মরদেহ ফিরিয়ে আনাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্বামীর লাশটি অন্তত শেষবারের মতো দেখতে তাই সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ইসমাইল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বড় ছেলে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে শুরুতে কিছুদিন বেকার থাকলেও পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় একটি চীনা কোম্পানির অধীনে কাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটার দিকে সেখানে গভীর গর্তে পাইপলাইনের কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। বিকেল পাঁচটার দিকে মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আরও
নিহতের স্ত্রী সোনিয়া বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। দুপুরে আবারও ফোন করার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার পরও কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি নিজেই স্বামীর সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এই দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন। সোনিয়া বেগম বলেন, সহকর্মীরা জানিয়েছেন লাশ দেশে আনতে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হবে। এমনিতেই বিদেশ যাওয়ার বিপুল ঋণ এখনো শোধ হয়নি, তার ওপর নতুন করে এত টাকা জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই সরকারি উদ্যোগেই স্বামীর মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, নিহত প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো তাঁদের সঙ্গে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি। তবে পরিবারটি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সরকারি নিয়মনীতি মেনে দ্রুততম সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।











