Opens in a new tab
সর্বশেষ

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

GfbvcbWeb Popup (3)

পটুয়াখালীর মহিপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়ার জেরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতাকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান ফারুক মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক। বর্বরোচিত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। এ সময় মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক অভিযোগ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে মহিপুর থেকে ওয়াকিটকি হাতে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নেন। পরে তাঁকে মোটরসাইকেলে করে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমিরুল ইসলাম ফাহিম, মাসুদ রানা ও রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল রাত একটা পর্যন্ত তাঁর ওপর দফায় দফায় অমানবিক নির্যাতন চালায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে ফারুক জানান, অসুস্থ মায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হামলাকারীদের পা ধরে ‘আব্বা’ ডেকে প্রাণভিক্ষা চাইলেও তাঁরা তাঁকে ছাড়েননি। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁকে তুলে নেওয়ার পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তাঁর দুই বন্ধু। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফারুক অভিযোগ করেন, ঘটনার বিস্তারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে হামলাকারীরা তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup