Opens in a new tab
সর্বশেষ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সুখবর

Untitled 1 6aba9a6e9d3f8Web Popup (3)

কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির জন্য ২৮ জন কর্মীর একটি চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে গত মে মাস থেকে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি কার্যত আবার চালু হলো। কর্মী নিয়োগে নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগে গত ৩১ মে বাজারটি বন্ধ করে দিয়েছিল মালয়েশিয়া। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফলপ্রসূ কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এই নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে শ্রমবাজার চালুর খবরে স্বস্তির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ। দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নিয়োগের ধাপ প্রকাশ করলেও দেশে তার যথাযথ প্রচার না থাকায় তথ্যঘাটতির সুযোগ নিচ্ছে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর নানা প্রলোভন দেখিয়ে তারা ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা, অর্থ লেনদেন বা মেডিকেল পরীক্ষা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মালয়েশিয়া যেতে কর্মীদের সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থাৎ ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। এবারও দালালচক্রের কারণে ৭-৮ লাখ টাকা খরচের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সিন্ডিকেট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অভিবাসন ব্যয় আবারও লাগামহীন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাইছেন। তাঁরা মনে করেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো গেলে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে।

এবারের শ্রমবাজার কতটা নিরাপদ ও টেকসই হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর। অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতিমধ্যে কর্মী নির্বাচনের জন্য ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি)’ চালু করেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন অনুযায়ী, বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে সরাসরি কর্মী বাছাইয়ের বিধান থাকলেও অতীতে তা মানা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনি কাঠামোর কঠোর প্রয়োগ এবং সরকারি ডাটাবেজভিত্তিক কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, দালালদের দৌরাত্ম্যে এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটি আবারও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup