কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নারী সেজে এবং নারীসুলভ কণ্ঠে কথা বলে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই যুবকের নাম তোফায়েল আলম ওরফে টিটু।
গতকাল রোববার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ। তিনি জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর এক দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

আরও
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাগবাড়ী এলাকার শাহনাজ বেগমের ছেলে শাহাদাত খান (২২) ইতালিতে বসবাস করেন। ফেসবুকে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে তোফায়েলের সঙ্গে ওই প্রবাসীর পরিচয় হয়। পেজটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও আপলোড করা হতো। তোফায়েল নিজে অবিকল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারতেন। এই দক্ষতার সুযোগ নিয়ে তিনি ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলে শাহাদাতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর নিজের মায়ের অসুস্থতাসহ নানা কৌশলে শাহাদাত ও তাঁর মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রথমে আদালতে একটি সিআর মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। ওই মামলার তদন্তকালে পিবিআই প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এর ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করা হয় এবং ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তোফায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতেও একটি সিআর মামলা রয়েছে, যেটিতে তদন্ত শেষে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এই প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।








