প্রবাসীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভূঁইফোড় সাংবাদিকদের একটি চক্র। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করার পর তথাকথিত সংবাদমাধ্যমের আড়ালে থাকা এই চক্রের এবারের প্রধান শিকারে পরিণত হয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘দৈনিক সময় বার্তা’ ও ‘দৈনিক গণজাগরণ’ নামক নামসর্বস্ব পোর্টাল দুটির কথিত সম্পাদক ও প্রকাশক মো. নূরুল ইসলাম রকি এই অপতৎপরতার মূল হোতা। তথাকথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক কারবারের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ভুয়া সংবাদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আর এবার প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকে ঘিরে তিনি নতুন করে গভীর চক্রান্ত শুরু করেছেন।
কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করেই প্রবাসীদের বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের পাঁয়তারা করছে এই চক্রটি। কারওয়ান বাজার ও মতিঝিলে ঠিকানা ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এসব ভুয়া পোর্টালের ধারাবাহিক হয়রানি ও অপতৎপরতার কারণে দেশে বিনিয়োগকারী প্রবাসীরা বর্তমানে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ফলে একদিকে যেমন প্রবাসী উদ্যোক্তাদের সামাজিক সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রবাসীরা বড় ধরনের আস্থার সংকটে পড়ছেন।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল যুগের অবাধ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গজিয়ে ওঠা এসব অনলাইন পোর্টাল সাংবাদিকতার মহান নীতিকে বিসর্জন দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংকেই এখন মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ ধরনের নগ্ন হলুদ সাংবাদিকতা কেবল স্বাধীন গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের টার্গেট করে এমন চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রেরকদের দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও
এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী প্রবাসী ও উদ্যোক্তারা মো. নূরুল ইসলাম রকি এবং তার সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অনিবন্ধিত পোর্টালগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করলেও, এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মূলোৎপাটনে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিটিআরসির সহযোগিতায় ভুয়া পোর্টালের ডোমেন বা লিংক ব্লক করার পাশাপাশি এই চাঁদাবাজ চক্রের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










