কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ রাতের আঁধারে কবর থেকে তুলে তাঁর নিজ আস্তানায় বা দরবারে পুনরায় সমাধিস্থ করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে এই অদ্ভুত কাণ্ড ঘটান তাঁর অনুসারীরা। পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোরস্থানে গিয়ে তিনি তাঁর ভাইয়ের কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পীরের দরবারে গিয়ে দেখেন, সেখানে নতুন করে মাটি চাপা দেওয়া একটি কবর তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ এবং কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আস্তানা থেকে দেহাবশেষটি উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ পুনরায় স্থানীয় গোরস্থানেই যথাযথ প্রক্রিয়ায় দাফন করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ইসলাম ধর্ম বিকৃত করার গুরুতর অভিযোগে দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকাবাসী। সে সময় বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই মারা যান শামীম জাহাঙ্গীর। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।









