Opens in a new tab
সর্বশেষ

সৌদি আর‌বে চাকরির নামে প্রতারণায় সর্বস্বান্ত ৮ পরিবার

SodiWeb Popup (3)

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ও রেস্তোরাঁয় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রামের আট যুবককে প্রবাসে নিয়ে আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ওই যুবকদের জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণও আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের আজম খান ও তাঁর ছেলে আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল বুধবার সকালে বাঁশখালীর সাধনপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই যুবকদের পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরে।

প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরা ভুক্তভোগীরা হলেন বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের মো. রায়হান, বখতেয়ার, হুমায়ুন ও মো. সিয়াম উদ্দিন, আনোয়ারা উপজেলার ইফতাহাদুল ইসলাম, সাতকানিয়ার মো. তারেক এবং রাউজান উপজেলার মো. তাসবির। এ ছাড়া মো. ফোরকান নামের আরেক যুবক গত আট মাস ধরে সৌদি আরবে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। জানা গেছে, জিম্মিদশা থেকে বাঁচতে মো. রায়হানের পরিবার সর্বমোট ১২ লাখ টাকা দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। এ ছাড়া বখতিয়ার ৩ লাখ ৬৩ হাজার, তারেক ২ লাখ ৯৭ হাজার এবং হুমায়ুন ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা দিয়ে কোনোরকমে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রায়হানের বোন আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, অভিযুক্ত আবদুল জলিল রেস্তোরাঁয় ভালো বেতনের কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে ভিসা বাবদ সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। শর্ত ছিল, সেখানে পৌঁছানোর ১৫ দিনের মধ্যে আকামা ও থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ ৪৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে নিয়ে তিন মাস মেয়াদি একটি ভিসার কপি ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে রায়হানের টাকা ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে তিন ধাপে আরও সাড়ে নয় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর গত ৮ জুলাই রায়হানকে এক কাপড়ে দেশে ফেরত পাঠান জলিল।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবদুল জলিল। সৌদি আরব থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কামাল জানান, ভুক্তভোগী আটজনের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছেন এবং অভিযুক্ত জলিল ভুক্তভোগীদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে দিয়েছেন। বাঁশখালীর ইউএনও মো. রুহুল আমিনও লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup