সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত নিজের এক মাসের বেতন ও ভাতা দিয়ে পটুয়াখালীর তিন হিন্দু প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাস নামের তিন ভাই প্রতিবন্ধী। সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে তাঁদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি এই সংসদ সদস্যের নজরে আসে। এরপরই তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, আজই তাঁর এক মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ওই পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের জরাজীর্ণ বসতবাড়িটি পুনর্নির্মাণ এবং নিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার খরচ চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও তিনি গ্রহণ করছেন।
আরও
এই উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে তিনি দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি, কারণ দেশে এখনো ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আদলে তৈরি আইনেই শাসনকাজ চলছে। মানুষের তৈরি আইন সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে সমান সুযোগ দিতে পারে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে তাদের ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা বললেও এখন তারা কেবল সংশোধনের কথা বলছে। একে তিনি জাতির সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি বলে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোর দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. মাসুদ স্পষ্ট করেন, তাঁর দল কখনো ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করে না। ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোনো শব্দ বা বিভাজনের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষকে সমান ও অভিন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে ইসলাম কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।










