কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সিরাজুল ইসলাম (৪৫) নামের এক গ্রিস প্রবাসীকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কল্পবাস কবরস্থান এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকায় জমি কিনেছিলেন, যা এখন তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে জীবিকার তাগিদে লেবাননে পাড়ি জমান সিরাজুল এবং সেখান থেকে উপার্জিত অর্থে ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ২৮ শতাংশ জমি কিনেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তিনি গ্রিসে চলে যান। ২০২৪ সালে দেশে ফেরার পর থেকেই স্থানীয় একটি চক্র ও তাঁর কিছু আত্মীয়স্বজন ওই জমিতে যাওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। বিরোধ এড়াতে তিনি নিজের বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছিলেন।
রোববার সকালে নিজের ক্রয়কৃত জমিতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। ‘চাঁদার টাকা না দিয়ে কেন জমিতে এসেছিস’—এমন হুঙ্কার দিয়ে রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, হুমায়ুন কবিরসহ কয়েকজন তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে, যার ফলে তাঁর দুই পা ভেঙে যায়। জীবন শঙ্কায় থাকা এই প্রবাসী এর আগে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং গ্রিসস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির কাছেও আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
আরও
এদিকে অভিযুক্তদের অন্যতম হুমায়ুন কবির চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জায়গা ও পুকুর লিজ নেওয়া সংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্বে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মেটাতে একাধিকবার সালিশ করা হলেও অভিযুক্তরা তা মানেনি। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।










