ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে থাকা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এবং যে বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেটিই তার বর্তমান অবস্থানের মূল নির্ধারক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের আগস্টে সহিংসতার মধ্যে ১৫ বছরের শাসন শেষে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। দেশজুড়ে তীব্র সংঘাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও বহু আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে—যা ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে অবস্থান করতে পারবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ। তিনি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, এবং সেই পরিস্থিতিই তার ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ করবে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তার নিজেরই।”
আরও
দিল্লি–ঢাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি—এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান সবসময়ই পরিষ্কার। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তারাই অতীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাই যদি নির্বাচনই বড় সমস্যা হয়, তাহলে সবার আগে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত।
ভারত বাংলাদেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা কামনা করে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি আস্থা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে যেই নেতৃত্বই আসুক, তারা দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।











