সিঙ্গাপুরে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১২ জন অভিবাসী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরো (সিএনবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক বলে শুক্রবার দ্য স্ট্রেইট টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। উডল্যান্ডস এলাকার একটি ডরমিটরিতে চার ঘণ্টা ধরে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
সিএনবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে মাদক পাচার ও মাদক সেবনের গুরুতর সন্দেহে আটক করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাত্রায় মাদক-সম্পর্কিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে অংশ নেয় সিএনবি ছাড়াও হেলথ সায়েন্সেস অথরিটি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি, শ্রম মন্ত্রণালয় (মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার) এবং সিঙ্গাপুর পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সিএনবির সদর দপ্তর থেকে অভিযান শুরুর পর কর্মকর্তারা ডরমিটরির বিভিন্ন কক্ষ ঘিরে ফেলেন। এক পর্যায়ে চারজন অভিবাসী শ্রমিককে হাতকড়া পরিয়ে বসিয়ে রাখার দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে তাদের ব্যাগ, পোশাক ও লাগেজ তল্লাশি করা হয়। পরবর্তী ধাপে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং অন্য এক কক্ষ থেকে গ্লাস বোতল, কাট স্ট্র, রাবার টিউবসহ সন্দেহভাজন মাদক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আরও
অভিযান চলাকালে ডরমিটরির অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দরজা ও করিডোরে দাঁড়িয়ে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। গভীর রাত ১টা ২০ মিনিটে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তদন্তের জন্য গাড়িতে করে নিয়ে যায় সিএনবি।
সিএনবির এনফোর্সমেন্ট জে ডিভিশনের ডেপুটি কমান্ডিং অফিসার সুপারিনটেনডেন্ট জ্যান্থাস টং হিয়েং জি বলেন, “মাদক সিঙ্গাপুরের কোনো সম্প্রদায়, কর্মস্থল বা ডরমিটরিতে স্থান পাবে না। আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখব।” সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে মাদক-সম্পর্কিত অভিযোগে মোট তিন হাজার ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল তিন হাজার ১২২।











