বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল হাজী ইসমাইল আল বালুশি। ওমানের জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়া বিশেষ বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারসহ ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সালতানাত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত জানান, চলতি বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে, যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দীর্ঘ ও সুদৃঢ় বন্ধনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ওমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পর্যায়ে মিশন স্থাপন করে, যা ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে উন্নীত হয়। অপরদিকে, ২০১২ সালে ঢাকায় ওমানের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপিত হয় এবং ২০২২ সালে প্রথম আবাসিক রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।
ওমানে কর্মরত প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সালতানাতের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
আরও
বাণীতে ওমানের জাতীয় দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৭৪৪ সালের ২০ নভেম্বর ইমাম আহমেদ বিন সাইদ আল বুসাইদি আধুনিক ওমান রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রয়াত সুলতান কাবুস বিন সাইদের শাসনামলে শুরু হওয়া নবজাগরণ বর্তমানে সুলতান হাইথাম বিন তারিকের নেতৃত্বে আরও গতিশীল হয়েছে। ওমান ভিশন ২০৪০ দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন এবং আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে পথপ্রদর্শক ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫ সাল ওমানের অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। তেল বহির্ভূত খাতের জিডিপিতে অবদান ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা, সরকারি ঋণ ৩৫ শতাংশ কমানো, করব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা বিকাশের মতো বহু উদ্যোগ সালতানাতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রমাণ করে। পাশাপাশি, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য কার্বন নির্গমন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, সবুজ হাইড্রোজেন প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং তিন লাখের বেশি গাছ রোপণসহ নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জামিল আল বালুশি বলেন, “ওমানের জাতীয় দিবস নিষ্ঠা ও উন্নতির গৌরবময় যাত্রার প্রতীক। সুলতান হাইথাম বিন তারিকের নেতৃত্বে সালতানাত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক ভারসাম্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ওমানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও দৃঢ় হবে—এই প্রত্যাশা অব্যাহত থাকবে।”












