বিদেশে পড়তে, ঘুরতে কিংবা কাজের জন্য ভিসা পেতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন বাংলাদেশিরা। স্কলারশিপ পাওয়া সত্ত্বেও অনেকে শেষ মুহূর্তে বিদেশে যেতে পারছেন না—ভিসা না পাওয়ার কারণে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, বহু দেশ ঘোরা ভ্রমণকারী ও চাকরিপ্রত্যাশী শ্রমিকরাও একই সমস্যায় আটকে আছেন।
ঘোষণা ছাড়াই বহু দেশ ভিসা দিচ্ছে না
বহু দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বাস্তবে বাংলাদেশিরা ভিসা পাচ্ছেন না।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি রাফেউজ্জামান জানান “ভারত, ইউএই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম—এসব দেশ কার্যত ভিসা দিচ্ছে না।”
এছাড়া থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়ার ভিসাও অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে।
আরও
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দেয় ভারত। আর ঘোষণা ছাড়াই ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার অনেক দেশের ভিসা পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বছরে ৫–৬ লাখ ভিজিট ভিসা দেয়; এ বছর সংখ্যাটি নেমে গেছে দুই লাখেরও কমে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় দেশগুলোও ২০২৩–২৪ সালের তুলনায় অনেক কম ভিসা দিচ্ছে।
কেন কঠিন হচ্ছে ভিসা পাওয়া?
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মূল কারণগুলো আরও গভীরে—
১. ভিসার অপব্যবহার:
অনেকেই কম কঠোর দেশের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে পরে অন্য দেশে অনিয়মিতভাবে ঢোকার চেষ্টা করছেন। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বহু দেশ এই প্রবণতা লক্ষ্য করে তাদের নীতি কঠোর করেছে।
২. ভিসা নিয়ে শ্রমিক পাঠানোর প্রতারণা:
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পর্যটন ভিসায় মানুষ পাঠিয়ে বিদেশে গিয়ে তা শ্রমিক ভিসায় রূপান্তর করানোর চেষ্টা করছে—যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
৩. বিদেশে রাজনৈতিক কোন্দল:
কিছু দেশে বাংলাদেশি রাজনৈতিক কর্মীদের প্রকাশ্য বিবাদ স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিতে সন্দেহ তৈরি করছে।
৪. পাসপোর্টের দুর্বল র্যাংকিং:
হেনলি ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বলগুলোর একটি—*তালিকায় সপ্তম নিচের অবস্থান।
বাংলাদেশিরা মাত্র ৩৮টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান—যার বেশিরভাগই আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে।
৫. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রবণতা:
রাজনৈতিক উত্তেজনার পর অনেকে দেশে অবস্থান অস্বস্তিকর মনে করে বিদেশে অনিয়মিতভাবে যাওয়ার চেষ্টা বাড়িয়েছেন।
সমাধান কোথায়?
ভারতের ভিসা সমস্যা পুরোপুরি রাজনৈতিক। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত এতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
তবে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করে সমস্যা কমানো সম্ভব।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন—
“দেশের ভিতরে যেসব অসাধু নেটওয়ার্ক ভিসার অপব্যবহারে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিলে বিশ্ব বিশ্বাস করবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছি। তখন ভিসা জটিলতা অনেকটাই কাটতে পারে।












