পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশগামী বিমানের টিকিটের দাম স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীরা। ঈদ ও হজ মৌসুমেও যাতে বিমানে যাতায়াতে অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার না হতে হয়—সে বিষয়ে সরকারের কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানান তারা। কয়েক মাস পর শুরু হবে আমিরাত প্রবাসীদের বার্ষিক ছুটির মৌসুম, যা সাধারণত রমজান থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এই সময়ে দেশে ফেরার প্রবণতা বাড়ায় টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
আমিরাতের আল আইন শহর, যা ‘গ্রীন সিটি’ হিসেবে পরিচিত, সেখানে রয়েছে বহু বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি। ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান এখন পুরোপুরি টিকিট বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শীতকাল, রমজান ও ঈদের মতো ব্যস্ত মৌসুমে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের দাম বাড়ায় যাত্রী চাহিদা কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
নেক্সট ট্যুর টাইপিং অ্যান্ড ট্রাভেলসের পরিচালক আবু হায়দার মোহাম্মদ মাহের বলেন, বাংলাদেশ বিমানের টিকিটের বর্তমান মূল্য প্রবাসীদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি টিকিটের দাম যতটা সম্ভব কমানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। একইভাবে, হ্যালো দুবাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান প্রবাসীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিশেষ করে ঈদকেন্দ্রিক যাত্রার টিকিট অন্তত দুই মাস আগে কেটে রাখলে বাড়তি খরচ এড়ানো সম্ভব। কারণ সময় ঘনিয়ে এলে দাম বাড়া অনিবার্য।
আরও
ট্রাভেল এজেন্টরা জানান, একসময় উচ্চ মুনাফার আশায় তারা এই ব্যবসায় যুক্ত হলেও বর্তমানে নানা সংকটে আয় কমে গেছে। ভিসা জটিলতা, টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও মৌসুমি ভ্রমণচাপের কারণে অনেক প্রবাসী ছুটিতেও দেশে ফিরতে পারছেন না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ট্রাভেল, ট্যুরিজম ও টাইপিং সেক্টরে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেন তারা।
প্রবাসীরা মনে করছেন, সরকারের কার্যকর তদারকি ও সহযোগিতা টিকিট মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, যা তাদের পরিবারে ফিরতে ও মৌসুমি ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।











