চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারার মামলায় কামরুন নাহার (৩২) নামে এক স্ত্রীর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আমলি আদালত। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দে এই আদেশ দেন।
মামলার বাদী তার স্বামী মজিবুর রহমান। তিনি ২০ জুলাই শাহরাস্তি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্ত্রী কামরুন নাহার স্বামী ও পরিবারের কাছ থেকে নগদ অর্থ, জমিজমা এবং ফ্ল্যাট দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতেন এবং বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার ফেরত দিচ্ছিলেন না।
বিচারক ২১ আগস্ট সমন জারি করার পরও আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কামরুন নাহারের অবস্থান শনাক্ত করে ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাহরাস্তির কালীবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করে। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুন কামরুন নাহার ও মজিবুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জামাই ও তার পরিবার প্রায় ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং ২ লাখ টাকার দেনমোহর পরিশোধ করেন। তবে বিয়ের পর থেকে কামরুন নাহার নগদ অর্থ ফেরত না দেওয়া, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে অর্থ গ্রহণ, এবং দাম্পত্য কলহের কারণে স্বামী ও পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে সমস্যা ও যৌতুক সংক্রান্ত বিষয়গুলোর কারণে সংসারে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ব্যবসায়িক কাজে রাখা স্বামীর টাকা নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কামরুন নাহার তাতে সাড়া দেননি। আদালতের এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা আইনের যথাযথ প্রয়োগ হিসেবে উল্লেখ করছেন।











